লালমনিরহাট প্রতিনিধি :
লালমনিরহাটের কিডনি রোগীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব (দুলু)-এর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও মানবিক উদ্যোগে জেলা শহরের সোনালী পার্ক জেল রোড এলাকায় অবস্থিত ড. সেলিমা ডায়াবেটিক ও জেনারেল হাসপাতালে আধুনিক কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট চালুর প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ইউনিটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে লালমনিরহাট জেলার কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা গ্রহণের জন্য রংপুরসহ বিভিন্ন দূরবর্তী শহরে যেতে হতো। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের সময়, অর্থ এবং শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিক ভোগান্তিও পোহাতে হতো। বিশেষ করে নিয়মিত ডায়ালাইসিস গ্রহণকারী রোগীদের জন্য এ যাতায়াত ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল।
নতুন ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু হলে জেলার কিডনি রোগীরা নিজ জেলাতেই আধুনিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এতে চিকিৎসাসেবা যেমন সহজলভ্য হবে, তেমনি রোগীদের অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয় ও ভোগান্তিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। ফলে জেলার হাজারো কিডনি রোগী ও তাদের পরিবার সরাসরি উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন জেলা বাসী ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের স্বজনরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অবশেষে লালমনিরহাটে ডায়ালাইসিস ইউনিট চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে। এটি জেলার স্বাস্থ্যসেবা খাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার ভট্টাচার্য বলেন, “মাননীয় ত্রাণ মন্ত্রী মহোদয়ের উদ্যোগে এবং সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করা এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া। আশা করছি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় ডায়ালাইসিস ইউনিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।”
তিনি বলেন, “ইউনিটটি চালু হলে জেলার অসংখ্য কিডনি রোগী নিজ এলাকায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং এর মাধ্যমে তাদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।”
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, ডায়ালাইসিস ইউনিট চালুর মাধ্যমে লালমনিরহাটে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে এবং কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় উন্নত পরিবর্তন আসবে।